হাইওয়ে পুলিশের ১৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট হাইওয়ে পুলিশের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত।

এ উপলক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার (১১ জুন ২০২৪) রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান, এমপি। ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বিপিএম (বার), পিপিএম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন হাইওয়ে পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজিপি মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম (বার)।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (গ্রেড-১) নূর মোহাম্মদ মজুমদার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোঃ জাহাংগীর আলম, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল করিম ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রমের ওপর একটি ডকুমেন্টারি প্রর্দশন করা হয়। পরে কেক কেটে হাইওয়ে পুলিশের ১৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করেন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশি সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে হাইওয়ে পুলিশসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশ হবে জনগণের প্রথম ভরসাস্থল। এ মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে জনগণের কাঙ্খিত সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশ এগিয়ে যাচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে ডাকাতি, ছিনতাই, দস্যুতা ও মাদক চোরাচালান বন্ধে ও মহাসড়কের দুর্ঘটনারোধে কাজ করে যাচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশের সকল সদস্য অত্যন্ত আন্তরিকতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি বলেন, হাইওয়ে পুলিশ যেন জনগণের নিকট সমাদৃত ও মহাসড়কে চলাচলরত জনগণের নিরাপত্তা এবং ভরসার আশ্রয়স্থল হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পায়, ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে সেই কামনা করছি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোঃ জাহাংগীর আলম বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই হাইওয়ে পুলিশের সদস্যগণ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে হাইওয়েতে যানবাহন চলাচলে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় কাজ করছেন। কেবল হাইওয়ে পুলিশের একার পক্ষে মহাসড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব না। তাই সকলের যথাযথভাবে ট্রাফিক আইন মেনে চলা উচিৎ।

সভাপতির বক্তব্যে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বিপিএম (বার), পিপিএম বলেন, হাইওয়ে পুলিশের নিরলস প্রচেষ্টায় মহাসড়কে ডাকাতি এখন অনেক কমে এসেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাইওয়ে পুলিশের জনবল বৃদ্ধি করেছেন, প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস ও ইকুইপমেন্ট দিয়েছেন। তাদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন, যার ফলে হাইওয়ে পুলিশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের যে ক্যাপাসিটি বাড়ানো হয়েছে তাতে শীঘ্রই বাংলাদেশ পুলিশ একটি ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে পরিণত হতে যাচ্ছে। আমি আশা করছি দুই মাসের মধ্যে একটি হেলিকপ্টার আসবে। ভবিষ্যতে আরও হেলিকপ্টার বাহিনীতে যোগ হবে। এর ফলে নৌপথ, সড়ক পথ ও আকাশ পথে বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করার সক্ষমতা অর্জন করবে।

তিনি বলেন, সারাদেশে একযোগে ৬৩ জেলায় জঙ্গি হামলা হয়েছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাংলাদেশ পুলিশ জঙ্গি দমনে সফল হয়ে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে।

আইজিপি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করছেন। আমাদের সদস্যরা কীভাবে কাজ করছেন তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মহাসড়কে যানজটের অবস্থা জানতে আমরা ড্রোন ব্যবহার করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সালে উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা বাস্তাবায়েনে বাংলাদেশ পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ঈদের সময় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া মহাসড়কে পুলিশ যেন কোন গাড়ি না থামায় সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ শাহাবুদ্দিন খান, বিপিএম (বার) বলেন, আমাদের সেবার মান বাড়ানোর জন্য অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়মিত মনিটরিং করা হয়। মহাসড়কে দায়িত্ব পালনকারী প্রতিটি সদস্য বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করেন। যার মাধ্যমে হাইওয়ের পুলিশের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে। ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে অত্যাধুনিক ড্রোন ব্যবহার মহাসড়কে যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বিপিএম (বার), পিপিএম (বার) সহ বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপিগণ, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ ও সড়ক পরিবহন সংগঠনের সাথে যুক্ত ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট হিসেবে ২০০৫ সালের ১১ জুন হাইওয়ে পুলিশের যাত্রা শুরু হয় এবং ২০০৯ সালে হাইওয়ে পুলিশ বিধিমালা প্রণীত হওয়ার মাধ্যমে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করে।

Facebook Comments