ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস পালিত

নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ঢাকাসহ সারা দেশে ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে শুক্রবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন।

সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়।

ছয় দফা দিবস উপলক্ষ্যে সকাল ৭টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন।

প্রথমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর তিনি স্বাধীনতার মহান স্থপতির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ প্রধান হিসাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আবার শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ছয় দফা স্বাধীনতা সংগ্রামের টার্নিং পয়েন্ট। যারা ছয় দফা মানে না, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। ছয় দফা হচ্ছে স্বাধীনতা আন্দোলনের মাইলফলক। ছয় দফার ভিত্তিতে ১১ দফা আন্দোলন শুরু করে ছাত্রসমাজ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ছয় দফা না হলে ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান হতো কিনা সেটিই বড় কথা। এই ছয় দফা আমাদের ইতিহাসের বাঁক পরিবর্তন করেছে। ৭৫-এর পর ৭ জুন ও ৭ মার্চ এসব দিবসকে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। যারা নিষিদ্ধ করে দেয়, তারা ৭৫-এর খুনের সঙ্গে জড়িত। তারা শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেনি, তারা হত্যা করতে চেয়েছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার আদর্শকে। সেজন্য বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ৭ মার্চ এবং ৭ জুন নির্বাসিত হয়ে যায়।

আওয়ামী লীগের পর ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, মৎস্যজীবী লীগ, তাঁতী লীগ, মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ভবনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আলোচনা সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

Facebook Comments