সকালে বৃষ্টির বাগড়া, ভোটার উপস্থিতি কম

ভোটের দিন সকাল থেকে বৃষ্টির বাগড়া। তবে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাদারীপুরে সদর ও রাজৈর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ভোটারদের উপস্থিতি বেশ কম রয়েছে।

তবে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার(৮ মে) সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় এই ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে একটানা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

জানা গেছে, সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খানের বড় ছেলে আসিবুর রহমান আসিব খান এবং শাজাহান খানের চাচাতো ভাই ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পাভেলুর রহমান শফিক খান উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মোট দুইজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৫ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত সদর উপজেলায় মোট ভোটার তিন লাখ ২২ হাজার ৪২৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৬৬ হাজার, নারী ভোটারের সংখ্যা এক লাখ ৫৬ হাজার ৪২১ জন। আর পাঁচ জন রয়েছে অন্যান্য ভোটার। এখানে মোট ভোটকেন্দ্র ১১৭টি, যেখানে ৭৯৪টি কক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন ভোটাররা।

এদিকে রাজৈর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মোট প্রার্থী তিনজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজৈর উপজেলায় মোট ভোটার দুই লাখ দুই হাজার ৩৫৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ পাঁচ হাজার ৪৪৫ জন, নারী ভোটারের সংখ্যা ৯৬ হাজার ৯০৯ জন ও অন্যান্য ভোটার দুইজন। এই উপজেলায় ৬৯টি ভোট কেন্দ্রে ৫০০টি কক্ষে ভোট প্রদানের সুযোগ পাচ্ছেন ভোটাররা।

প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রতিটি কেন্দ্রে চারজন পুলিশ, ২০ জন আনসার সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলায় ২৯টি ও রাজৈরে ১৪টি মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সদরে সাতটি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রাজৈরে রয়েছে তিনটি। সদর উপজেলায় ছয় প্লাটুন বিজিবি ও রাজৈরে চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে জেলায় গোয়েন্দা পুলিশ, র‍্যাব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটও দায়িত্ব পালন করছেন। সবকিছু মিলিয়ে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয় প্রশাসন।

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। দুটি উপজেলাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, র‍্যাব, আনসারসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে। কোথায় কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে মোকাবেলায় প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান বলেন, ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ভোটার ভোট দিয়ে নির্বিঘ্নে বাড়িতে পৌঁছাতে পারে, সে ব্যাপারেও সতর্ক রয়েছে প্রশাসন।

 

Facebook Comments