জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক

বোলিংয়ে ভালো শুরু করেও বাংলাদেশ শেষ দিকে রান দিলো অপ্রত্যাশিতভাবে। ব্যাটিংয়েও শুরুটা হলো দারুণ, কিন্তু টপ অর্ডার আহামরি কিছু করতে পারেনি। অবশ্য জিম্বাবুয়েকে প্রত্যাশিতভাবে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে হারালো বাংলাদেশ। ৬ উইকেটে ম্যাচটি জিতলেও বিশ্বকাপের আগে দলের এমন পারফরম্যান্স প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার মতো।

১৩৯ রানের লক্ষ্য ছোঁয়া খুব কঠিন কিছু নয়। কিন্তু বাংলাদেশের টপ অর্ডারের ব্যাটাররা ব্যর্থতার পরিচয় দিলেন। ঠিক জমছিল না ম্যাচও। অবশেষে চার উইকেট হারানোর পর মাহমুদউল্লাহ ও তাওহীদ হৃদয় জুটি বাঁধতেই রঙ পাল্টালো ম্যাচ। নান্দনিক চার ছয়ের ম্যাচে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন তারা দুজন। এর মধ্যে ১০৩ মিটার দূরে পাঠানো মাহমুদউল্লাহর ছক্কা ছিল প্রশংসনীয়।

পঞ্চম উইকেটে ৪৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন দুজন। ১৯তম ওভারের তৃতীয় বলে চার মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন মাহমুদউল্লাহ।

এর আগে দুইবার বৃষ্টি ব্যাঘাত ঘটায় বাংলাদেশের ইনিংসে। তানজিদ হাসান তামিম (১৮) এবার হতাশ করেন। নাজমুল হোসেন শান্তও (১৬) ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিতে পারলেন না। দারুণ শুরুর পর লিটন দাস (২৩) বলার মতো কিছু করে দেখাতে পারেননি। জাকের আলী (১৩) ফিরে যান দ্রুত। ৯৩ রানে চার উইকেট হারানোর পর হৃদয়-মাহমুদউল্লাহর দর্শনীয় ইনিংসে ১৮.৩ ওভারে ম্যাচ জেতে বাংলাদেশ। ৪ উইকেটে ১৪২ রান করে বাংলাদেশ।

মাহমুদউল্লাহ ১৬ বলে ১ ছয় ও ২ চারে ২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। হৃদয় ২৫ বলে ৩ চার ও ২ ছয়ে ৩৭ রানের সেরা ইনিংস খেলে ম্যাচ জেতান।

এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ তে এগিয়ে থাকলো বাংলাদেশ। আগামী মঙ্গলবার সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে স্বাগতিকরা।

এক ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খাওয়া বাংলাদেশ তাওহীদ হৃদয় ও জাকের আলীর ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু তাদের জুটি ৩১ রানের বেশি হলো না। ১৪তম ওভারে জাকের বোল্ড হলেন রিচার্ড এনগারাভার বলে। ১২ বলে ১ ছয়ে ১৩ রানে আউট বাংলাদেশি ব্যাটার। ৯৩ রানে চার উইকেট হারালেও বাংলাদেশ স্বস্তিতে আছে।

১৩ রানে লং অনে লুক জংবের হাত গলে জীবন পেয়ে লিটন দাস ইনিংস বড় করতে পারলেন না। আগের ওভারে ক্যাচ মিস করার প্রায়শ্চিত্ত করলেন একই ওভারে দুটি উইকেট নিয়ে। শান্তকে ফেরানোর পর দশম ওভারে লিটনকেও আউট করেছেন জংবে। ১০ ওভারে ৬২ রানে ৩ উইকেট হারালো বাংলাদেশ। লিটন মাত্র ২৩ রান করে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে জোনাথন ক্যাম্পবেলের ক্যাচ হন। তার ২৫ বলের ইনিংসে ছিল ২ চার ও ১ ছয়।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দুই ম্যাচেই হতাশ করলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম ম্যাচে ২১ রান করা বাংলাদেশের অধিনায়ক এবার আরও আগেই বিদায় নিলেন। রবিবার ১৫ বলে ১ ছয়ে ১৬ রান করে লং অনে বদলি ফিল্ডার রায়ার্ন বার্লের ক্যাচ হন শান্ত। আগের ওভারে লিটন দাসের ক্যাচ ছাড়া লুক জংবে বল হাতে তার উইকেট নিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করেন। ৯.৩ ওভারে ৬১ রানে ২ উইকেট হারালো বাংলাদেশ।

১৩ রানে জীবন পেলেন লিটন দাস। নবম ওভারের চতুর্থ বলে লং অনে লুক জংবের হাত গলে বেরিয়ে যায় বল। ৯ ওভারে বাংলাদেশের রান ১ উইকেটে ৬০।

তানজিদ হাসান তামিম এবার হতাশ করলেন। দলীয় ৪১ রানে লম্বা শট খেলতে গিয়ে এন্দলোভুর শিকার হন তিনি। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ভাঙলো উদ্বোধনী জুটি। ১৯ বলে ১টি করে চার ও ছয়ে ১৮ রান করেন তানজিদ। ডিপ মিডউইকেটে ব্রায়ান বেনেট সামনে ঝাঁপিয়ে তার ক্যাচ নেন। পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৪১ রান।

চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও বাংলাদেশের ইনিংসে বৃষ্টি নেমেছিল। তবে এবার লম্বা সময় কভারের নিচে থাকেনি পিচ। তিন মিনিট পরই বৃষ্টি থেমে গেলে আবার মাঠে নেমেছে দুই দল।

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারের প্রথম বলের পর নেমেছে বৃষ্টি। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ১৩৯ রানের লক্ষ্যে নেমে বাংলাদেশ করেছে ৫ উইকেটে ৩৪ রান।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে লিটন দাস ও তানজিদ হাসান তামিমের ওপেনিং জুটিতে ৩ ওভারে ২৩ রান করেছে বাংলাদেশ। মারমুখী ব্যাটিংয়ে লিটন প্রথম দুই ওভারে ১৮ রান তুলতে অবদান রাখেন। জিততে বাংলাদেশকে করতে হবে ১৩৯ রান।

বল হাতে দারুণ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ৪২ রানে তারা জিম্বাবুয়ের পাঁচ উইকেট তুলে নেয়। কিন্তু ষষ্ঠ উইকেটে ব্রায়ান বেনেট ও জোনাথন ক্যাম্পবেলের জুটিতে সফরকারীরা ঘুরে দাঁড়ায়। তাতে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রান করে তারা। বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৩৯ রান।

আগের ম্যাচে দারুণ প্রত্যাবর্তন করা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন শেষ ওভারে ১৮ রান দেন। প্রথম দুই ওভারে ৬ রান দেওয়া এই পেসার চার ওভার বোলিং শেষে দিয়েছেন ৩৭ রান।

বেনেট ও ক্যাম্পবেল ৪৩ বলে ৬৩ রানের জুটি গড়েন। তাতেই সম্মানজনক স্কোর গড়ে জিম্বাবুয়ে। ২৯ বলে ২ চার ও ৩ ছয়ে ৪৪ রান করেন বেনেট। সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন অভিষিক্ত ব্যাটার ক্যাম্পবেল।

বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন ও রিশাদ দুটি করে উইকেট নেন।

১৯তম ওভারে বল হাতে নিয়ে তাসকিন আহমেদ পেলেন নিজের দ্বিতীয় উইকেট। লুক জংবে বাউন্ডারির সামনে ক্যাচ দেন তাওহীদ হৃদয়কে। ১২০ রানে ৭ উইকেট পড়লো জিম্বাবুয়ের।

জিম্বাবুয়ের সাবেক তারকা ক্রিকেটার জোনাথন ক্যাম্পবেল অভিষেকে দারুণ এক ইনিংস খেললেন। চার-ছক্কায় হাফ সেঞ্চুরির পথে এগোচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ১৮তম ওভারে শরিফুল ইসলামের বলে থামতে হলো ৫ রানের আক্ষেপ নিয়ে। ২৪ বলে ৪ চার ও ৩ ছয়ে ৪৫ রানে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ক্যাচ হন এই ব্যাটার। ব্রায়ান বেনেটের সঙ্গে ৪৩ বলে ৭৩ রানের জুটি গড়েন ক্যাম্পবেল। ১১৫ রানে ৬ উইকেট হারালো জিম্বাবুয়ে।

দশম ওভারে রিশাদ হোসেন বল হাতে নিয়ে প্রথম তিন বলে দুটি উইকেট নেন। সিকান্দার রাজাকে লিটন দাসের ক্যাচ বানান ৩ রানে। তারপর ক্লাইভ মাদান্দে ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান তামিমকে। ডাক মারেন তিনি।

পরের ওভারে শেখ মেহেদী হাসান ১৩ রানে ক্রেইগ আরভিনকে প্যাভিলিয়নে পাঠান। ১৬ বলে ১৩ রান করে লিটনের ক্যাচ হন জিম্বাবুয়ে ব্যাটার। ৪২ রানে ৫ উইকেট হারালো জিম্বাবুয়ে। একই ওভারে ষষ্ঠ উইকেট পড়তে পারতো তাদের। অভিষেকে সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামা জোনাথন ক্যাম্পবেলের সহজ ক্যাচ ছাড়েন উইকেটকিপার জাকের আলী। ১ রানে জীবন পান ক্যাম্পবেল।

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন নিজের প্রথম ওভারে ৪ রান দেন। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে তুলে নিলেন উইকেট। ওপেনার জয়লর্ড গাম্বিকে মিড অফে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ বানান তিনি। ৩০ বলে ১ চারে ১৭ রান করেন জিম্বাবুয়ান ব্যাটার। ৭.১ ওভারের খেলা শেষে ৩০ রানে ২ উইকেট হারালো জিম্বাবুয়ে।

পাওয়ার প্লেতে দারুণ বোলিং করলো বাংলাদেশ। প্রথম ৬ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছে তারা। শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, শেখ মেহেদী হাসান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন আঁটসাঁট বোলিং করেন।

চতুর্থ ওভারের পঞ্চম বলে জিম্বাবুয়ের ওপেনিং জুটি ভাঙলো। তাসকিন আহমেদের বলে এলবিডব্লিউর আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। বাংলাদেশ অধিনায়কের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। তাদিওয়ানাশে মারুমানি ৪ বলে ২ রানে আউট হলেন। ১৫ রানে প্রথম উইকেট পেলো বাংলাদেশ। ৪ ওভারে ১ উইকেটে ১৫ রান জিম্বাবুয়ের।

শরিফুল ইসলাম প্রথম ওভারে বল হাতে নেন। মাত্র ২ রান নেয় জিম্বাবুয়ের ওপেনিং জুটি। দ্বিতীয় ওভারে শেখ মেহেদী হাসান দেন মাত্র ১ রান।

টসে জিতে বাংলাদেশ বোলিং নিয়েছে। রবিবার চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। প্রথম ম্যাচে ৮ উইকেটে তারা দুর্দান্ত জয় পায়। তানজিদ হাসান তামিম হাফ সেঞ্চুরিতে ম্যাচ জিতিয়ে অভিষেক রাঙান।

শান্ত বলেন, ‘আমরা প্রথমে বল করবো। বোলারদের সবাই ভালো বল করেছে। আরেকটু ভালো করা দরকার।’

তিনটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে জিম্বাবুয়ে। টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হচ্ছে সাবেক অধিনায়ক অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেলের ছেলে জোনাথন ক্যাম্পবেলের। তাদিওয়ানাশে মারুমানি ও আইন্সলে এন্দলোভুকে নেওয়া হয়েছে। শন উইলিয়ামস, রায়ান বার্ল ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা বাদ পড়েছেন।

বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান তামিম, লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তাওহীদ ‍হৃদয়, মাহমুদউল্লাহ, জাকের আলী (উইকেটকিপার), মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন।

জিম্বাবুয়ে একাদশ: জয়লর্ড গাম্বি, ক্রেইগ আরভিন, তাদিওয়ানাশে মারুমানি, ব্রায়ান বেনেট, সিকান্দার রাজা (অধিনায়ক), ক্লাইভ মাদান্দে, জোনাথন ক্যাম্পবেল, লুক জংবে, আইন্সলে এন্দলোভু, রিচার্ড এনাগারাভা, ব্লেসিং মুজারাবানি।

Facebook Comments