ঈদকে সামনে রেখে বেড়েছে মশলার দাম

সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও পাইকারি ও খুচরা বাজারে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। এছাড়া ঈদকে সামনে রেখে প্রায় সব ধরনের মশলার দাম বেড়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৬ থেকে ৪০ টাকা। এ হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজ ৮-১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজের এমন দাম বাড়ার বিষয়ে কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী  জানান, গত সপ্তাহের চেয়ে এ সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকার মতো বেড়েছে। ঈদ একটা কারণ। তবে, বৃষ্টিতে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ার কারণেও দাম বেড়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে দামও কমবে। ঈদের আগে না কমলেও ঈদের পর পেঁয়াজের দাম কমে যাবে। তখন চাহিদা কমবে, তাই দামও কমবে।

বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী গত সপ্তাহে পেঁয়াজ ৪০-৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। আজ তা ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি করছি। দুই দিন ধরে আড়তে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে বেশি দামে বিক্রি করছি। তবে, ঈদের আগে পেঁয়াজের দাম কমার সম্ভাবনা নেই।

ঈদকে সামনে রেখে দাম বেড়েছে চিনি, সেমাই এর মতো পণ্যগুলোর। ঈদে বাঙালীর রান্নার অন্যতম উপকরণ নানা ধরনের মশলা। এদিকে ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে চাহিদা বাড়ছে মশলার। রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা যায় বর্তমানে এলাচি বিক্রি হচ্ছে ১৮০০-২৬০০ টাকা, দাড়চিনি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়, লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে ১১৫০ টাকায়, গোল মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০০টাকায়। জিরা এককেজি ৩৫০-৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ঈদ এগিয়ে আসায় তাই ভিড় বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের দোকানে। চাহিদা থাকায় দামও বেড়েছে বেশ। বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে চিনি ও সেমাইয়ের মতো পণ্যগুলোও। তবে রোজার শেষদিকে বিক্রি কমেছে ছোলা ও খেজুরের। ঈদের বাজারে সেমাইয়ের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০ টাকা বনফুল ও কুলসম কিষোয়ানসহ বিভিন্ন কোম্পানির ২০০ গ্রাম সেমাইয়ের প্যাকেটে এ বছর ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা।

প্রতি কেজি লম্বা খোলা সেমাই কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেমাই, নুডলসসহ ময়দায় তৈরি অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। ব্যবসায়িরা বলছেন, ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে দাম বাড়ায় ময়দার দাম বৃদ্ধির প্রভাব এটি । রাজধানীর মোহম্মদপুর কৃষি মার্কেট,আদাবর, মহাখালী কাচাঁবাজারের বিভিন্ন দোকাদারদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। খুচরা দোকানদার মোশাররফ হোসেন বলেন, গত বছর ২০০ গ্রাম প্যাকেটজাত লাচ্ছা সেমাইয়ের দাম ছিল ৩৫ টাকা। সেটা এখন ১০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৪৫ টাকা।

প্যাকেট নুডলসের ওজন প্রায় ৫০০ গ্রাম, এর দাম ৬ মাস আগেও ছিল ১২৫ টাকা যেটা এখন ১৪০ টাকা। ৩ মাস আগে ৬০ টাকা দাম ছিল ৪০০ গ্রামের কুলসন ম্যাকারনি পাস্তার। সেটা ধাপে ধাপে ১৫ টাকা বেড়ে হয়েছে ৭৫ টাকা হয়েছে। ঈদ ঘিরে প্রতিবছরই চাহিদা বাড়ে পোলাওয়ের চালের। এক মাসের ব্যবধানে খোলা ও প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০-২৫ টাকা বেড়ে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চাল কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকা।

গত দুই মাসের ব্যবধানে ফুলক্রিম গুঁড়াদুধের দাম বেড়েছে কেজিতে ৪০ টাকা। ৫০০ গ্রাম গুঁড়াদুধ ৩৬৫ টাকা। ড্যানো এক কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৭০ টাকা। ৫০০ গ্রাম মার্ক ও ফ্রেস দুধ বিক্রি হচ্ছে ২৩০টাকয়। প্রতি কেজি প্যাকেটজাত সাদা চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা। আর প্যাকেটের গায়ে লিখা লাল আখের চিনি বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন প্যাকেটে মুল্য দেওয়া না থাকলেও দোকানীরা নিজেদের ইচ্ছে মতো বিক্রি করছে ১০০-১১০ টাকা। খোলা সাদা চিনি ৮০ টাকা ও লাল চিনি ৯০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজের পাশাপাশি অন্য মশলার দামও বেড়েছে। আজকের বাজারে রসুন ১২০-১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১০০-১২০ টাকা। ১০০-১৩০ টাকার আদা আজ ১৫০-২০০ টাকায়, ৪০০-৪৩০ টাকার জিরা ৪৫০-৫০০ টাকায়, ৪২০-৪৪০ টাকার মরিচ ও হলুদ গুড়া আজ ৪৫০-৫০০ টাকায়, ১২৫০-১৪০০ টাকার এলাচ ১৪০০-১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্য সবজির দাম কিছুটা কমলেও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে আলু। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয় ২৫ টাকায়, আজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকায়।

আলুর দাম বাড়ার বিষয়ে বিষয়ে কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী আবদুস সালাম জানান, আলুর দাম কমার সম্ভাবনা নেই। নতুন আলু বাজারে আসলে তখন দাম কমতে পারে। তার আগে দাম কমবে না, বরং আরও বাড়ার সম্ভাবনা আছে।

মুরগির বাজারে আজ ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫৫-১৬০ টাকায়। পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৬০-২৭০ টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দামে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।

গত সপ্তাহের মতো সবজি বাজারে সব থেকে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গাজর। এক কেজি গাজরের দাম মান ভেদে ১২০-১৪০ টাকা। টমেটোর কেজি আগের মতো ৭০-৮০ টাকা, বরবটি ৫০-৬০, বেগুন ৪০-৫০ এবং করলা ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

নতুন আসা সবজি কাঁকরোল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকায়। কাঁচা পেঁপের কেজি ২৫-৩০, পটল- ঢেঁড়স-ঝিঙে-চিচিঙ্গার কেজি ৪০-৫০, কাঁচা কলার হালি ৩০-৪০ টাকা, কচুর লতির কেজি ৫০-৬০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানেও প্রায় সবগুলো সবজির দাম অপরিবর্তিত আছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছের কেজি আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৪০০ টাকায়। তেলাপিয়া ও পাঙাস ১৬০-১৮০, শিং ৩০০-৪৫০, শোল ৪০০-৬০০, কৈ ২০০-২৫০, পাবদা ৩০০-৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের দামে তেমন পরিবর্তন আসেনি।

রোজার সময় প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম বেড়ে ৭০০ টাকা হয়েছে। তারপর আর দাম কমেনি। আজও বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা কেজি দরে। খাসির মাংস ১ হাজার টাকা প্রতি কেজি।

Facebook Comments