গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী শেখ হাসিনা

তাসনিম তাপসী

‘দেশকে ভালোবাসি, দেশের জনগণকে ভালোবাসি’ বলে যে দৃঢ় উচ্চারণ, তা তার মুখে সবসময় সত্য হয়ে ফোটে। শেখ হাসিনার হাতেই দেশের গণতন্ত্র ধারাবাহিকতা পেয়েছে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে তিনিই রেখে চলেছেন অগ্রণী ভূমিকা। দেশকে, দলকে, দলের প্রতিটি সদস্যকে, আর সর্বোপরি দেশের আপামর জনসাধারণকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে তিনি ‘জননেত্রী’ উপাধির প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা দেখিয়ে চলেছেন।

দেশকে ভালোবেসে এগিয়ে যেতে পারে, সারা বিশ্বেই তার দৃষ্টান্ত শেখ হাসিনা।জনগণের প্রত্যশা পূরণের লক্ষ্যেই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই তার পথ চলা। উন্নয়নের সকল প্রচেষ্টাই জাতির পিতার স্বপ্নের “সোনার বাংলা” রচনা করার লক্ষ্যে সে কথা বার বার উচ্চারণ করেন শেখ হাসিনা।

তৃণমূল থেকে উঠে আসা ঐতিহ্যবাহী একটি দল আওয়ামী লীগ তার সকল গৌরব অক্ষুণ্ন রেখে এগিয়ে চলেছে। নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজে আওয়ামী লীগের আত্মনিয়োগ অনেকাংশেই স্পষ্ট। শেখ হাসিনা তার দৃঢ় হাতে দেশ পরিচালনার পাশাপাশি দলকেও সুগঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছে ১৯৯৬-২০০১, ২০০৯-২০১৪ ও ২০১৪-২০১৯ এই তিন দফা। তার হাত ধরে গঙ্গা চুক্তি, শান্তি চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাহসী কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে তারই নেতৃত্বে গড়ে উঠছে পদ্মা সেতু। আগেই তৈরি হয়েছে যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু। খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এসেছে তারই হাত ধরে। সাধারণ মানুষকে স্বাবলম্বী করতে তিনিই এনেছেন একটি বাড়ি একটি খামার। আর জাতির দায় মুক্তির জন্য তিনি জাতির জনকের খুনিদের ফাঁসিতে যেমন ঝুলিয়েছেন, তেমনি একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের একে একে ফাঁসির কাষ্ঠে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

শেখ হাসিনার এই এগিয়ে চলার ইতিহাস আওয়ামী লীগের ইতিহাসকেই সম্মৃদ্ধ করেছে। যে দলটির হাত ধরে দেশ স্বাধীন হয়েছে, বিশ্বমানচিত্রে হয়েছে নিজেদের একটি স্বাধীন ভূমি। সেই দলের হাত ধরেই হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি।

বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে অসীম সাহসকে পুজি করেই তার এগিয়ে চলা। যে পথ এখনও অনেক দূর পর্যন্ত প্রশস্ত। এরই মধ্যে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে তার সুনাম বিশ্ব পরিমণ্ডলে বিস্তৃত। তার কাছে গোটা বিশ্বের প্রত্যাশাও বাড়ছে।

সারা বিশ্বে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ যখন একটি বড় সমস্যা তখন বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ দমনে শেখ হাসিনা যে ভূমিকা দেখিয়েছেন তাতে বিশ্ব নেতারা তাকে হ্যাটস অফ করছেন। তারা এর কৌশল জানতে চাইছেন। জলবায়ূ পরিবর্তন যখন সবার সমস্যা তখন অন্যের সহায়তার আশায় বসে না থেকে নিজেই লড়াই করে শেখ হাসিনা হয়ে উঠেছেন “চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ”। নারীকে রাজনৈতিক কেবল নয়, অর্থনৈতিক ক্ষমতার মাঝে তুলে এনে তিনি আজ প্লানেট ফিফটি ফিফটি চ্যাম্পিয়ন। আর সার্বিকভাবে তাকেই বলা হয় “এজেন্ট অব চেঞ্জেস”।

বিশ্বজোড়া খ্যাতি নিয়ে এই ‘জননেত্রী’ বাংলাদেশ নামের একটি দেশকে বিশ্বের কাছে সম্মানের স্থানে আসীন করেছেন। রাজনৈতিক সকল সহিংসতা, জ্বালাও- পোড়াও ও ডামাডোলকে শক্ত হাতে বিদায় করে দেশে শান্তি এনেছেন। দেশের বাইরেও সন্ত্রাস ও সংঘাতের এলাকাগুলোতে সেনা পাঠিয়ে জাতিসংঘের শান্তিতেও তার সরকার রেখে চলেছে অনন্য সাধারণ ভূমিকা।

করোনা কালীন সময়ে অনেক মানুষ যখন মানুষের পাশে এসে দাড়িয়ে মানবতার পরিচয় দিচ্ছেন ঠিক তখনই এক শ্রেণির স্বার্থ লোভী মানুষ করোনাকে ব্যবসায়ীক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে ব্যস্ত।

অথচ, একজন শেখ হাসিনা যে সব কিছু হারিয়ে দেশের মানুষের কল্যানের কথা ভেবে দেশের দুঃসময়ে ভঙ্গুর রাজনীতিতে যোগ দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যে কোন দুর্যোগময় সময়ে একমাত্র শেখ হাসিনার নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকে গোটা দেশ। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের একাধিক মন্ত্রী থাকলেও অনেক সময় তিনি নিজেই সব সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। ঠিক একই ভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপরও তার দৃষ্টি রয়েছে।

করোনা সংকট মোকাবিলায় খুব বিচক্ষণতার সাথে সকল সিদ্ধান্ত গ্রহন করে দেশ ও দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ফোর্বস ম্যাগাজিনসহ আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে।

২৪ এপ্রিল এক আর্টিকেলে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে বিখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস। একইসঙ্গে প্রশংসা করা হয়েছে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বেরও।

পূর্বনির্ধারিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শত বার্ষিকী শুরু হয় ১৭ ই মার্চ। এ উপলক্ষে সরকার বছর ব্যাপি আয়োজনও করে কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে শেখ হাসিনার নির্দেশে মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠানে জনসমাগম ঠেকাতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

একই সাথে জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে নানান পদক্ষেপ গ্রহণ এবং হতদরিদ্রদের মাঝে ত্রান বিতরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার নির্দেশেই এসব ত্রান বিতরণে নিজ দল,দলের বাইরে,সরকারি চাকরিজীবি যারা অনিয়ম করেছেন তারাই পদ হারিয়ে জেলে যেতে হয়েছে।

করোনা রোগীরা যেন ভালো স্বাস্থ্য সেবা পায় এ জন্য ডাক্তারদের জন্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেন। করোনায় কাজ কাজ করতে গিয়ে যদি কোন সরকারি কর্মকর্তা আক্রান্ত বা মৃত্যু হয় তার জন্য আলাদা ভাতার ব্যবস্থা করেন।

অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে বিশেষ প্রনোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন যার অর্ধেক সুদ দেবে সরকার। এই সময় বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটের আশংকা থাকলেও বাংলাদেশে খাদ্যের তেমন সংকট হবে না বলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা দেন।

গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার অগ্রপথিক শেখ হাসিনার এই অগ্রণী ভূমিকা জাতি স্মরণ করবে, বিশ্বেও হয়ে থাকবে স্মরণীয়।

Facebook Comments