জিম্বাবুয়েকে হারালো বাংলাদেশ

সাত মাস পর ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নেমে বিশাল জয় পেল টাইগররা। জয়ের ম্যাচে সেঞ্চুরি করলেন লিটন দাস (১২৬ রান)। রবিবার সিলেটে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ১৬৯ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। ওয়ানডেতে রানের দিক থেকে বাংলাদেশের এটি সবচেয়ে বড় জয়। এর আগে টাইগারদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয় ছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬৩ রানের। এই জয়ে ৩ ম্যাচের ওয়ানডেতে ১-০তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ছুড়ে দেওয়া ৩২২ রান তাড়া করতে নেমে ৩৯.১ ওভারে ১৫২ রানেই অলআউট হয় শেভরনরা। বল হাতে বাংলাদেশের সাইফউদ্দিন ৩টি, মাশরাফি ও মিরাজ ২টি করে উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট নেন তাইজুল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান। ব্যাট হাতে জিম্বাবুয়ের ওয়েসলি মাদভেরে ৩৫ ও তিনোতেন্দা মুতুমবোজি ২৪ রান করেন। মঙ্গলবার একই মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে।৩২২ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে ওপেনার তিনাশি কামুনহুকামুয়ে (১) ফেরেন দলীয় এক রানে। তার করা ওভারের চতুর্থ বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে যান তিনি। মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের বলে আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নিলেন চামু চিবাবা। পরে মিললো ব্যাটে বল স্পর্শের প্রমাণ। বেঁচে গেলেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক। সে সময় ৯ রানে ছিলেন তিনি। এক বল পর এলবিডব্লিউর সফল রিভিউয়ে রেজিস চাকাভাকে ফেরায় বাংলাদেশ। অফ স্টাম্পের বাইরে সুইং করে ভেতরে ঢোকা বলে সুইপ করতে চেয়েছিলেন চাকাভা। ব্যাটে খেলতে পারেননি। বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায় বল আঘাত হানতো মিডল স্টাম্পে। ১৮ বলে ১১ রান করেন চাকাভা।দলীয় স্কোরকার্ডে কোন রান যোগ না হতেই জিম্বাবুয়ের শিবিরে এবার মাশরাফির আক্রমণ। বিশ্বকাপের পর প্রথম ম্যাচে নেমেই উইকেটের দেখা পেলেন ম্যাশ। চামু চিবাবাকে মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে পাঠান টাইগার দলপতি। ২২ বল খেলে ১০ রান তুলেছেন তিনি।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই ধীরগতিতে খেলেছেন তামিম। তাই মন্থর ব্যাটিংয়ের মাশুলও দিতে হল তামিমকে। ইনিংসের ১৩তম ওভারের ৪র্থ বলে ওয়েসলি এনদলোভুর বলে এলবিডাব্লিউ’র শিকার হয়ে ফিরতে হয় তামিমকে। ৪৩ বল খেলে ২৪ রান করেন তামিম।
এরপর ভালো খেলতে থাকা শান্ত ফিরে গেলেন আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হয়ে। রিভিও না থাকায় সাজঘরে ফিরতে হলো তাকে। ব্যক্তিগত ২৯ রানে আউট হলেন তিনি। মুতোম্বোজির বলে তার আউট হওয়ায় দলীয় ১৪০ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারাল বাংলাদেশ।
ওপেনিংয়ে নেমে দুর্দান্ত খেলছেন খেলেছেন লিটন দাস। ৪৫ বলে তুলে নিয়েছিলেন ব্যক্তিগত অর্ধশত। পরের ৫০ রান করতে তিনি খেললেন ৫০ বল। অর্থাৎ, ৯৫ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন লিটন। ইনিংসের ৩৪তম ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে শতক পূর্ণ করেন লিটন দাস। তবে পায়ে ক্র্যাম্প করায় রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয়েছে টপ অর্ডার এই ব্যাটসম্যানকে। এর আগে ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে তথা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন লিটন। লিটনের শতক পূর্ণ হতেই প্যাভিলিয়নের পথে পা মাড়ালেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। দলীয় রান তখন ১৮২ আর মুশির নামের পাশে ২৬ বলে মাত্র ১৯ রান।
লিটন রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফিরলে উইকেটে আসেন মোহাম্মদ মিথুন। চতুর্থ উইকেটে রিয়াদের সঙ্গে গড়েন ৬৮ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে রাখেন। ইনিংসের ৪৬তম ওভারে ক্রিস এমপফুর বলে এলবিডাব্লিউ’র শিকার হয়ে রিয়াদ ফেরেন দলীয় ২৭৪ রানে। এর আগে রিয়াদ ২৮ বলে ২টি চার এবং ১টি ছয়ে ৩২ রান করেন।
শেষ দিকে দারুণ ব্যাটিং করে অর্ধশতক তুলে নেন মোহাম্মদ মিথুন। তবে ফিফটি হাঁকানোর পরেই এমপফুর দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন মিথুন। দলীয় ২৮৯ রানে ব্যক্তিগত ৪১ বলে ৫০ রানে ফেরেন মিথুন। তার ইনিংসে ৫টি চারের সঙ্গে ছিল একটি ছয়ের মারও। শেষ দিকে মিরাজের ৭ আর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ঝড়ো ১৫ বলে ২৮ রানে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৩২১ রানে।জিম্বাবুয়ের হয়ে দু’টি উইকেট নেন ক্রিস এমপফু আর একটি করে উইকেট তুলে নেন টিনোটেন্ডা মুতোমবোদজি, ডোনাল্ড তিরিপানো, ওয়েসলি মাধেভার এবং কার্ল মুম্বা।

Facebook Comments