বিআরটিএ’র সিদ্ধান্তে হতাশ রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মগুলো

প্রায় তিন মাস বন্ধ থাকার পর রাইড শেয়ারিং সেবা কার্যক্রম চালুর অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। তবে চলাচলের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাত্র ২৫৫টি চার চাকার বাহনকে। সংস্থাটির এমন সিদ্ধান্তে হতাশ রাইড শেয়ারিং সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো।

রোববার (২১ জুন) অনুমতিপ্রাপ্ত ২৫৫টি মোটরযান রাইড শেয়ারিং সেবার আওতায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে বলে জানায় বিআরটিএ। বিষয়টি অবহিত করতে রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোকেও চিঠি দেয় সংস্থাটি। তবে এ নির্দেশনায় টু-হুইলার অর্থ্যাৎ মোটরবাইকের রাইড শেয়ারিং সেবা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা-২০১৭ অধীন এনলিস্টমেন্ট সনদ নেওয়া যানবাহনগুলোকেই শুধু চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়।স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচলের অনুমতি পাওয়া ২৫৫টি বাহনের মধ্যে ১৫টি উবারে এবং দু’টি পাঠাও’তে নিবন্ধিত। বাকিগুলোর মধ্যে পিকমির ৩২টি, সিএনএসের ৬১টি, ওভাই’র আটটি, ইজিয়ারের ১০০টি, আকিজ অনলাইনের তিনটি এবং সেজেস্টার ৩৪টি। মূলত চার চাকার মোটরকার, জিপ, মাইক্রোবাস এবং অ্যাম্বুলেন্স ক্যাটাগরিতে এনলিস্টমেন্ট থাকা সাপেক্ষে অনুমতি দেওয়া হয় বলে জানায় বিআরটিএ।

এতে বলা হয়,মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং বন্ধ রেখে শুধু ২৫৫টি ফোর- হুইলারের অনুমতি দেওয়ায় আমরা খুবই হতাশ। আমরা বিশ্বাস করি না যে, আমাদের বিপুল সংখ্যক গ্রাহকদের এ ক্ষুদ্র এবং সীমিত পরিসরের বহর দিয়ে যথাযথভাবে সন্তোষজনক সেবা দেওয়া সম্ভব। বিআরটিএ’র এমন সিদ্ধান্ত এ পুরো ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি আঘাত যেখানে এ খাত প্রচুর সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছে। মধ্যবিত্ত শ্রেণির যাত্রীদের চলাচলের স্বার্থ এবং যুবসমাজ যারা এ খাত থেকে জীবিকা নির্বাহ করেন তাদের স্বার্থও আমরা এ সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হতে দেখি না।

বিআরটিএ’র এমন সিদ্ধান্তের জন্য দেশি পরিচালিত বহুজাতিক আরেকটি রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনে বার্সা। কারও নাম উল্লেখ না করলেও বিবৃতিতে বলা হয়, একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এড়িয়ে রেগুলেটর (বিআরটিএ) প্রতি প্রস্তাবনা উত্থাপন করেছে। এখানে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবহেলা করা হয়েছে।

সহজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মালিহা এম কাদির বলেন, সংস্থাটির এমন সিদ্ধান্ত খুবই হতাশাজনক। এ সিদ্ধান্ত মধ্যম আয়ের মানুষদের যাতায়াতকে আরও কঠিন করে তুললো। পরিবহন এমনিতেই সংখ্যায় কম এবং যখন ভাইরাস সংক্রমণের কথা আসে তখন গণপরিবহন আরও ঝুঁকিপূর্ণ।

Facebook Comments