খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে আদালতকে প্রভাবিত করতে চায় না সরকার

খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে তার পরিবারের বিশেষ আবেদন করার ব্যাপারে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যারা বিশেষ আবেদনের কথা বলছেন, তারা আসলে আবেদন কার কাছে করবেন? আদালত নাকি সরকারের কাছে? বেগম জিয়া কিন্তু এখন আদালতের এখতিয়ারে। এখানে সহমর্মিতা-সহানুভূতির বিষয় নয়, এটা লিগ্যাল ব্যাপার। আসলে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে সহমর্মিতা বা সহানুভূতির ঘাটতি নেই। কিন্তু এক্ষেত্রে সহানুভূতির কথা বলে তো আমরা আদালতকে প্রভাবিত করতে পারি না।
শনিবার (২৫ জানুয়ারি) ব্র্যাকের আয়ােজনে নারী গাড়ি চালকদের প্রশিক্ষণ-পরবর্তী সার্টিফিকেট বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।
খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে বিশেষ আবেদন করবে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। যদি খালেদা জিয়ার পরিবার তার মুক্তির জন্য বিশেষ আবেদন করে সে ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান কী হতে পারে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিশেষ আবেদন আদালতে নাকি সরকারের কাছে করবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। এটা আমরা জানিও না আর সরকারের কাছে আবেদনের বিষয়ও নয়।
খালেদা জিয়ার পরিবার আবেদন করলে কোনো সহমর্মিতা পাবেন কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এখানে সহমর্মিতা সহানুভূতির বিষয় নয় এটা লিগ্যাল ব্যাপার। আসলে সরকারের পক্ষ থেকে সহমর্মিতা বা সহানুভূতির ঘাটতি তো নেই, খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সহানুভূতির কথা বলে তো আমরা আদালতকে প্রভাবিত করতে পারি না; সহমর্মিতা দিয়ে আইনকে প্রভাবিত করাও যায় না।
বিএনপির অভিযোগ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জেতার জন্য সরকার সবকিছু ব্যবহার করছে। এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন,আমরা উল্টো চিত্রটাই জানি। বিএনপির নির্বাচনে হেরে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য নানামুখী অজুহাত খুঁজছে।
তিনি বলেন, তারা তথ্যপ্রমাণ দিক। কোথায় কোথায় সরকারের মাধ্যমে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন দেখছেন। সেটা তো প্রমাণ করতে হবে প্রমাণ দিক। দেশবাসী জানুক, শুধু মনগড়া কথা বললে তো হবে না! বিএনপি তো অন্ধকারে ঢিল ছুড়ে। অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার মতো বক্তব্য দিলে তো হবে না। কোথায় সরকার আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে, নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে বলুক। আমি পার্টির সেক্রেটারি। একটা অফিসেও আমি আজ পর্যন্ত যাইনি। তাহলে কীভাবে প্রভাবিত হচ্ছে আমি জানি না। শুধু বললেই হবে না তথ্যপ্রমাণ দিক।
সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা চাইলেই ইভিএমের মাধ্যমে জালিয়াতি করতে পারবেন এবং কাউন্সিলরদের সমর্থন দিয়ে প্রত্যেকটি দলের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, সদ্য সমাপ্ত চট্টগ্রাম উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয় লাভ করেছেন। আবার বগুড়ার দুপচাঁচিয়া পৌরসভা নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতিতে বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। যদি ইভিএমে কারচুপি করার সুযোগ থাকে এবং নির্বাচন নিয়ে কোনো জালিয়াতি হয় তাহলে চট্টগ্রাম ও উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম কেন? সরকারের যদি এখানে খারাপ কোনো উদ্দেশ্য থাকতো তাহলে তো নির্বাচনে উপস্থিতির সংখ্যা বেড়ে যেত! নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে এমন অভিযোগ করা যুক্তিহীন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here